"খ্যং স্যাং মা" এর অর্থ হলো নদ-নদীর নিয়ন্ত্রণকারী দেবী । এ দেবী অত্যন্ত ক্ষমতাধর । পৃথিবীর সমস্ত ছড়া,ঝর্ণা,নদ-নদী তাঁর নিয়ন্ত্রণাধাীনে । তাঁকে ঠিকমতো পূজা দেওয়া হলে যে কোন আপদ-বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব বা যায় বলে মারমারা বিশ্বাস করে । এ দেবীর চার জন সহকারী রয়েছে । তাঁদের নাম যথাক্রমে "খ্যং ন্ হ্রাং", "লেংদাক" ,"কাঙসেমস","চমাঙ্ লে" । এরাও আবার কম ক্ষমতাশালী নয় । 

এলাকাভেদে  "খ্যং স্যাং মা" দেবীকে তিন উদ্দেশ্যে তিন প্রকার পূজা করা হয় বা হয়ে থাকে । 

প্রথমত , কোন দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য এ দেবীর যে পূজা দেওয়া হয় তাতে কোন প্রকার বলি দেওয়া হয় না । এক্ষেত্রে পূজারী বৈদ্য বাশেঁর বেত দিয়ে "খো-খোয়ক"(বিশেষ ধরনের বড় ফাক করে বোনা ঝুড়ি ) তৈরীকরে  তার ভেতর কলাপাতা বসিয়ে তাতে সাত টুকরা পাকা কলা ,সাতটি ফুল এবং কিছু খৈ ও গুড় দিয়ে নৈবেদ্য সাজিয়ে নিয়ে নদীতে কিংবা ছড়ার ধারে গিয়ে একটা পরিষ্কার জায়গায় তা রেখে দেবীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যেমে পূজার পূজার কাজ কাজ সমাপ্ত করেন । 

দ্বিতীয় , কোন প্রসূতির প্রসব বেদনা শুরু হবার অনেক্ষণ পরও শিশু ভুমিষ্ঠ না হয়এবং প্রসব বেদনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকলে নিরাপদে প্রসব যাতে হয় ,সে লক্ষ্যেও "খ্যং স্যাং মা"কে পূজা দেওয়া হয় । এক্ষেত্রে ও পূজারী বৈদ্য বাশেঁর বেত দিয়ে "খো-খোয়ক"(বিশেষ ধরনের বড় ফাক করে বোনা ঝুড়ি ) তৈরীকরে  তার ভেতর কলাপাতা বসিয়ে তাতে সাত মুঠো চাউল দিয়ে একটা মুরগি  রক্ত ছিটিয়ে দিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যেমে দেবীকে বন্দনা করে প্রসূতির মায়ের  নিরাপদ প্রসবের জন্য সবিনয়ে অনুরোধ করে পূজা শেষ করা হয় । 

পড়ুন মারমা সমাজে দেব দেবী পূজা ও লোকবিশ্বাস

তৃতীয় ,মারমা অধ্যুষিত  কোন কোন এলাকা গ্রামের কোন অপদেবতা,ভুত,প্রেত কিংবা পেত্নী আশ্রয় নিয়ে গ্রামবাসীর কারোর যাতে কোন প্রকার ক্ষতি করতে না পারে সে লক্ষ্যে গ্রামের প্রত্যেক পরিবার মিলে বছরে একবার "খ্যং স্যাং মা"কে পূজা দিয়ে থাকে । এ ক্ষেত্রেও  পূজারী বৈদ্যের নেতৃত্বে পূজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় । এ পূজার জন্য নদীর ধারে একটা "মাচাং" তৈরী করে তাতে কলাপাতা বিছিয়ে চাউল,পাকা কলার টুকরো ,ফুল,খৈ,গুড় ইত্যাদি রাখা হয় । তার সাথে ছাগল কিংবা শুকর বলি দিয়ে তার রক্ত ছিটিয়ে দেওয়া হয় । এরূপ পূজায় গ্রামের প্রত্যেক পরিবার থেকে অত্যন্ত একজনকে উপস্থিতি থাকতে হয়। এ পূজা সাধারণত সন্ধ্যাবেলায় করা হয় এবং উপাদান গুলোর সাজানোর সময় প্রদীপ ও জ্বালানো হয় ।